জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মেহেদী হাসান রাব্বির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদ রাব্বির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয় এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ধৈর্য, শক্তি ও সহায়তা প্রার্থনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মনোয়ার হোসেন খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সম্মানিত প্রশাসক জনাব আলি আহম্মদ, মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্মানিত সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব হাসানুর রহমান হাসুসহ জেলা, উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বির আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের আন্দোলনে তাঁর আত্মদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁরা শহীদদের আদর্শকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ রাব্বির পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর ছোট্ট সন্তানকে ঘিরে উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পিতার স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত এই নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ যেন সুন্দর, নিরাপদ ও আলোকিত হয়—সেজন্য সবাই মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। একই সঙ্গে শহীদ রাব্বির স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।

দোয়া মাহফিলে দেশ, জাতি, গণতন্ত্রের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং বাংলাদেশে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বির আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং তাঁর স্মৃতি ও অবদান সর্বদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।