কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় চলতি বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ সরকারি ত্রাণের চাল না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। যদিও উপজেলা প্রশাসনের দাবি, চলতি বছর উপজেলায় উল্লেখযোগ্য বন্যা না হওয়ায় বরাদ্দকৃত চাল দুটি ইউনিয়নের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে নদীভাঙন ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসন থেকে নাগেশ্বরী উপজেলার জন্য ৩০ মেট্রিক টন ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেন।
বেরুবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, এখন পর্যন্ত তাদের ইউনিয়নে বন্যার্তদের জন্য কোনো সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। বরাদ্দকৃত চাল কোথায় রয়েছে, সেটিও তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে রামখানা ও সন্তোষপুর ইউনিয়নের নামে মোট ৩০ মেট্রিক টন ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেখানো হয়।
রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, তার নামে ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও শর্ত ছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চাহিদামাত্র তা ফেরত দিতে হবে।
সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক জানান, এ বছর ইউনিয়নে বন্যা না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার নামে ৫ মেট্রিক টন চালের ডিও (DO) ইস্যু করেন এবং পরে তা উপ-বরাদ্দ হিসেবে দেখানো হবে বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মতৈক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এ বছর নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যা না হওয়ায় বরাদ্দকৃত চাল দুটি ইউনিয়নের নামে বরাদ্দ দিয়ে সরকারি গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।”
নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ২৫ হাজারের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত ছিলেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাগেশ্বরী উপজেলায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অনেকের প্রশ্ন, বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল বিতরণ না করে গুদামে সংরক্ষণ করা বিধি অনুযায়ী কতটা যৌক্তিক। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য হলো, পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাল সংরক্ষণ করা হয়েছে।