ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আমন ধানের চারা রোপণের সময় আকস্মিক বজ্রপাতে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরপাড়া ইউনিয়নের শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহত কৃষক মুমিন মিয়া (৩০) ওই গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে।
আহতরা হলেন একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) ও হুমায়ুন কবির (৪০)। গুরুতর আহত আব্দুর রাজ্জাককে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হুমায়ুন কবির বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম আকন্দ ও আল মামুন জানান, শনিবার বিকেলে মুমিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করছিলেন। এ সময় বাজারে যাওয়ার পথে হুমায়ুন কবির সেখানে পৌঁছান। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তিনজনই পাশের একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মুমিন মিয়ার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতের তীব্র আঘাতে আহত হন আব্দুর রাজ্জাক ও হুমায়ুন কবির। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম গণমাধ্যমকে বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাছাড়া আহত দুজনের মধ্যে একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অপরজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
বজ্রপাতের ভয়াবহতা জানা পূর্বক সতর্কতাই পারে এই ধরনের দূর্ঘটনা হ্রাস করতে।
বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ঈশ্বরগঞ্জেও বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা মাঠে কৃষিকাজের সময় কিংবা বৃষ্টি শুরু হলে গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু স্থান ও একাকী গাছের নিচে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। একটি অসতর্ক মুহূর্তই কেড়ে নিতে পারে একটি তাজা প্রাণ—মুমিন মিয়ার মৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ।