ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ বাজারে দিনের বেলায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, বাজার এলাকায় ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, টিনশেড স্থাপনার ভেঙে পড়া অংশ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাঠ, টিন ও নির্মাণসামগ্রী। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের পোস্টকারীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের কেহ স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—আমরা কি ধীরে ধীরে মব সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?
একটি সভ্য রাষ্ট্রে বিচার করার দায়িত্ব আদালতের, আর আইন প্রয়োগের দায়িত্ব রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কিন্তু যখন কোনো উত্তেজিত জনতা নিজেরাই বিচারক ও শাস্তিদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন তা আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
মব সংস্কৃতির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, এখানে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত থাকে। গুজব, ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাজনৈতিক উত্তেজনা কখনো কখনো সহিংসতার জন্ম দিতে পারে, যার শিকার নিরপরাধ মানুষও হতে পারেন।
ঘরবাড়ি ভাঙচুর, দোকানপাটে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ কিংবা প্রকাশ্যে মারধরের মতো অভিযোগ সত্য হলে তা কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের পথ হতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ড আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
মাইজবাগের ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করাই হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদাহরণ।