মাগুরায় পৌছালো লিবিয়া প্রবাসী রিফাতের লাশ। মানব পাচার ও অর্থ আত্মসাৎকারী মাফিয়া কুবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

মাগুরা সদর থানা, গ্রাম- মঘী, মঘী ইউনিয়ন,মৃত মোহাম্মদ রিফাত হোসেন (২১),পিতা ইসমাইল হোসেন।বুধবার ২৯ জুলাই বিকাল ৬ টার সময় মঘী হেলিপ্যাড মাঠ।

মৃত রিফাত টাকা ইনকামের আশায় কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর গ্রামের দালাল কুবাদের খপ্পরে পড়ে তার চাচা সহ তিনজন পাড়ি জমায় বিদেশে কিন্তু তাদের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যায় টাকার কাছে।

মঘী ইউনিয়ন সহ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দেখতে আসে লা,,শ এবং পরবর্তীতে জানাজার নামাজ পড়ানো হয়।

মাগুরা সদর থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানব পাচার ও অর্থ আত্মসাৎকারী মাফিয়া কুবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

আমি মোঃ নবীরুজ্জামান (৪৯), পিং-মোঃ আলেক মোল্যা, সাং- মঘী, পোস্ট- জাগলা, থানা ও জেলা- মাগুরা। আপনার থানায় হাজির হইয়া বিবাদী ১। জেসমিন বেগম (৪৫), স্বামী- কুবাদ মোল্যা ২। কুবাদ মোল্যা (৪৬), পিতা- হাসেম মোল্যা ৩। বিপ্লাব হোসেন (১৮), পিতা- কুবাদ মোল্যা, ৪। হাসেম মোল্যা (৭০), পিতা- অজ্ঞাত, সর্ব সাং-শ্রীকান্তপুর, পোস্ট- জাগলা, থানা ও জেলা- মাগুরাগন অত্যন্ত, চালাক, পরসম্পদলোভী, পরসম্পদ আত্মসাৎকারী, মানবপাচারকারী মাফিয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী অসৎ প্রকৃতির লোকজন হইতেছে। বিবাদীগনের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, ১/২/৩নং বিবাদীর সহিত আমার ও ১নং স্বাক্ষীর পূর্ব পরিচয় এবং ভালো সম্পর্ক ছিলো। ২নং বিবাদী লিবিয়া থাকে। ১/২নং বিবাদী আমাকে বলে যে, তোমাকে গ্রিস রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে পারি সেজন্য আমাকে ১২,০০,০০০/-(বারো লক্ষ) টাকা দিতে হবে। প্রথম পাসপোর্ট এর সাথে ১,৩৫,০০০/- টাকা জমা দেই ও পাসপোর্টে ১৩০০ ডলার বাবদ = ১,৬৫,০০০/- টাকা ইনডোজ করি এবং বাকী টাকা গ্রিস পৌঁছানোর পর আমাকে দিতে বলে। ২নং বিবাদী আমাকে প্রথমে গত ইং- ২০/০৭/২০২৫ তারিখে সৌদি আবর নিয়ে যায়, তারপর ঐখান থেকে মিশর আলেকজ্যান্ডার নেয়। তারপর মিশর থেকে গ্রিস রাষ্ট্রে না লইয়া লিবিয়া নিয়ে যায়। ২নং বিবাদী আমাকে লিবিয়া নিয়ে যাওয়ার পর একটি ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখে। ২নং বিবাদী মাফিয়া কুবাদ আমাকে মারধর করে বলে যে, ১০,০০,০০০/- টাকা দিতে হবে তাহলে তোমাকে গ্রিসে পাঠাইয়া দিবো নচেৎ জীবনে শেষ করে ফেলবো। তখন আমি ভয়ে ভীত হয়ে বাড়িতে আমার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে টাকা দিতে বলি। তখন আমার স্ত্রী নাছিমা খাতুন ও আমার মামা দুলাল মোল্যাকে স্বাক্ষী রেখে ও ভিডিও করে ১/৩নং বিবাদীর হাতে ৭,০০,০০০/- টাকা দেয়। ২নং বিবাদী মাফিয়া কুবাদ সর্বমোট ১০,০০,০০০/- টাকা প্রাপ্ত হওয়ার পরেও আমাকে আরেকটি ঘরের মধ্যে ১৩ দিন আটকিয়ে রাখে তখন আমি বলি আমাকে গ্রিস পাঠিয়ে দাও। কিন্তু ২নং বিবাদী পুনরায় আমাকে মারধর করে ঐখান থেকে আরেকটি ঘরের মধ্যে ৩১দিন আটকিয়ে রাখে। সকালে ২০০ গ্রাম ভাত ও রাত ১২টার পরে ২০০ গ্রাম ভাত খেতে দিত এভাবে আমাকে নির্যাতন করে ২নং বিবাদী অন্য আরেকজন মাফিয়ার নিকট আমাকে বিক্রি করে দেয়। ঐ মাফিয়া আমাকে মারধর করে এবং একটি ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখে। তখন আমি সুকৌশলে দরজা খুলে পালিয়ে যাই। রাস্তা থেকে আমাকে লিবিয়া পুলিশ ধরে ফেলে এবং থানায় নিয়ে যায়। লিবিয়া পুলিশ ২ দিন পর আমাকে সফর জেলে পাঠিয়ে দেয়। এক মাস পাঁচ দিন পরে আইওএম এর সহযোগিতায় আমাকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেয়। বাড়িতে এসে আমি স্থানীয় স্বাক্ষীদের লইয়া ২নং বিবাদী মাফিয়া কুবাদের বাড়ীতে যাই। সেখানে কুবাদের স্ত্রী এবং পিতা ও ছেলেকে দেখতে পাইয়া আমি তাদের নিকট সমস্ত বিষয় খুলে বলি ও আমার পাওনা টাকা ফেরত চাহিলে তারা আমাকে এক সপ্তাহ পরে টাকা দিবে মর্মে মৌখিক অঙ্গীকার করে। বিবাদীগন আমাকে টাকা না দিয়ে ০১ মাস ঘুরায়। পরবর্তীতে ১নং বিবাদীর সহযোগিতায় ২নং বিবাদী ও তার ছোট ভাই কিবির হোসেন টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে গ্রিস পালিয়ে যায়। বিষয়টি লইয়া স্থানীয় ভাবে স্বাক্ষীদের সহিত আলাপ আলোচনা করিয়া এবং মিমাংসার চেষ্টা করিতে ব্যর্থ হইয়া অভিযোগ দায়ের করিতে বিলম্ব হইল। প্রকাশ থাকে যে, স্বাক্ষী ১। জুয়েল, পিতা- সায়াদুল্লাহ, সাং- লস্কারপুর, পোস্ট- ভাবনহাটি, থানা ও জেলা- মাগুরাকেও ২নং বিবাদী একই ভাবে বিদেশ লিবিয়া নিয়ে যায়, স্বাক্ষী জুয়েল ও আমি বিদেশে একই সাথে ছিলাম।

অতএব, মহোদয় সমীপে আমার আকুল আবেদন আমার অত্র অভিযোগ খানা গ্রহণ করতঃ আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে আপনার সদয় মর্জি হয়।
তারিখঃ- ২৮/১২/২০২৫ ইং।
বিনীত নিবেদক (মোঃ নবীরুজ্জামান)

একইভাবে লস্কারপুর গ্রামের সায়াদুল্লাহ হক খানের পুত্র জুয়েল হোসেন (৪৮) সেও ১২ লাখ টাকা দিয়ে ছিলো এবং সেও দালাল কুবাদের খপ্পরে পড়ে জেল কেটে বাড়ি আসে।
আর রিফাত হোসেনের লিবিয়া দেশের বেনগাজী গাম্ভুরদা জেলখানায় ১৫ দিন পর মৃত্যু হয় আর মৃত দেহ ৩ মাস পর বাংলাদেশে আসলো। রিফাতের মৃত্যুর কারণ কুবাদ দালাল লিবিয়া দেশের তবরুক শহরের একটা বাড়িতে আটকিয়ে নির্মম নির্যাতন করে। টাকা পয়সা নিয়ে ভুয়া গেম দিয়ে লিবিয়া দেশের পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তারা কুবাদ ও তার ভাই গ্রীসে চলে যায়।