ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাকনহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ বজলে রব কামালের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছরের সরকারি শিক্ষাসেবার ইতি টেনে বিদায় নিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার হৃদয় সবসময় এই বিদ্যালয় ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছেই পড়ে থাকবে।” তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সোমবার বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল হক। বিদায়ী বক্তব্যে সৈয়দ বজলে রব কামাল বলেন, “২৩ বছরের চাকরি জীবনে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। আমার জানা মতে, শিক্ষকতার আদর্শের পরিপন্থী কোনো কাজ করিনি। শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে সবসময় নিজেকে নিবেদিত রেখেছি।”

তিনি আরও বলেন, “২০০৩ সালে কাকনহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও পরিবেশগত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আমি এলাকাবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের সহযোগিতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।”

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি যদি কখনো কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি কিংবা আমার কোনো আচরণে কারও মনে আঘাত লেগে থাকে, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বারবার বলছিল, ‘স্যার, আপনি চলে যাবেন?’ আমি তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেছি, যাব না। কিন্তু আজ সত্যিই বিদায় নিতে হচ্ছে। তবে আমার হৃদয় ও মন সবসময় এই প্রিয় শিক্ষাঙ্গনেই পড়ে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, “সৈয়দ বজলে রব কামাল একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভুঁইয়া মনি বলেন, “একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসরে যান না। তিনি তাঁর কর্ম, আদর্শ ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আজীবন বেঁচে থাকেন। বজলে রব কামাল স্যারের অবদান কাকনহাটি এলাকার মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আমার পিতা একজন শিক্ষক ছিলেন। আমি সবসময় শিক্ষকদের সম্মান করে থাকি এবং আজীবন তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অটুট থাকবে।”

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ঈশ্বরগঞ্জ শাখার সভাপতি হযরত আলী। তারাটি নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল হুদার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ঈশ্বরগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ তাসাদ্দাক পিন্টু, ভাইদগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন, সুজন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তালুকদার, ঈশ্বরগঞ্জ কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অলক ঘোষ ছোটন, ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান, সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও শুভকামনা জানিয়ে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে সম্মানিত করেন। বক্তারা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং শান্তিপূর্ণ অবসর জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।