চিলমারীতে: ব্রহ্মপুত্র নদের ধারা পশ্চিম দিকে পাউবো বাধ ও বাধের স্লোপে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে আঘাত হানায় সৃষ্ট ধস রক্ষায় গতকাল বুধবার কর্তৃপক্ষের দায়সারা কাজে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন এলাকাবাসী। ভাঙ্গন আতঙ্কে রাতভর জেগে জেগে নিজেদের ঘর-বাড়ি রক্ষায় তারা হিমশিম হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি নদের ভাঙ্গন শুরু হলে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল সড়কটারী থেকে কালিরকুড়া পর্যন্ত ৬টি স্থানে পাউবো বাধ ও বাধের স্লোপে তৈরী করা ব্রহ্মপুত্রনদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্প ধস দেখা দেয়। নদের তিব্র স্রোতে সৃষ্ট ভাঙ্গনে বাধ ধসে আশপাশের এলাকা বিলীন হওয়ার উপক্রম হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তড়িঘড়ি করে বেশ কিছু জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ধসে যাওয়া স্থান গুলো রক্ষার চেষ্টা চালায়। স্থানীয়রা জানায়, ধসে যাওয়া স্থান গুলোতে জিও ব্যাগ ফেলার সময় এসব স্থানের দক্ষিনের অংশেও ধস নেমে আসে। এ অবস্থায় কিছু দিন পার করলেও এবারে ওয়াপদা বাধ ও বাধে নির্মিত ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের পিচিং সহ সড়কটারীর বাধের একাংশ নদে ধসে গেছে। সেই সাথে নদের স্রোতের ধারা পশ্চিমে প্রবাহিত হওয়ায় বাধ ও বাধের স্লোপে নির্মিত ডান তীররক্ষা প্রকল্পের পিচিং ধসে গিয়ে পার্শ্ববর্তি এলাকা গুলো ভাঙ্গনের চরম ঝুকিতে রয়েছে। স্থানী বসতির রবিউল জানান, আমি গতকাল পাউবো এর এসও শরিফুল ইসলামকে মোবাইলে এই ভাঙ্গনের বিষয়টি অবহিত করলে তিনি পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ না পাওয়া কথা জানান। তিনি আরো বলেন, বাধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্বদায় সচেষ্ট রয়েছে। এলাকাবসীর মধ্যে মিজানুর রহমান, নুর ইসলাম সহ অনেকের অভিযোগ স্থায়ী ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করে তালবাহানা শুরু করেছেন। তারা আরো জানান, এখানে রমনার জুয়েল নামের জনৈক ব্যক্তি ও স্থানীয় নজরুল ঠিকাদারের মদদপুষ্ট হয়ে বাধরাস্তার উপর জমা করা বালু দিয়ে জিওব্যাগ ভর্তি করে লোকচক্ষুর অন্তরালে ডাম্পিং এর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সচেতন মহল দাবী করেন যেখানে ৪ হাজার ব্যাগের জরুরী প্রয়োজন সেখানে পাউবো ৩০০ ব্যাগ দিয়েই ভাঙ্গনের ধস রক্ষায় বৃথা চেষ্টা করে এলাকার জনবহুল বসতির জীবন যাপনকে আতঙ্কের মাঝে ঠেলে দিয়েছেন।