চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের মেতা জাহিন শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তার শরীর থেকে বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের পাশাপাশি দুই পায়ের তালু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক জখমকরা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল রাত আনুমানিক ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জাহিন শেখ (৪০) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জ গ্রামের রজব আলীর ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকার কাছে তাকে লক্ষ্য করে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব বলেন, রোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর ক্ষত হয়েছে। তার বাম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া দুই পায়ের তালু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলায় কারা জড়িত এবং কী কারণে এ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, হামলায় জাহিন শেখের একটি হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।