লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) পরিচালিত পৃথক তিনটি মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইয়াবা, গাঁজা ও ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৫০ টাকা।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ১৫ বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৭ জুলাই অনন্তপুর, গোড়কমন্ডল ও দৈখাওয়া বিওপির পৃথক তিনটি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালানের চেষ্টা হতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টা ২০ মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন নাগরাজ এলাকা, দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন পূর্বটারী (ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম) এবং ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে দৈখাওয়া বিওপির আওতাধীন পূর্ব আমঝোল (হাতিবান্ধা, লালমনিরহাট) এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা সঙ্গে থাকা মাদকদ্রব্য ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ১ হাজার ৯৯৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা, ৭ দশমিক ৭ কেজি গাঁজা এবং ১০২ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত ইয়াবার সিজার মূল্য ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা, গাঁজার ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা এবং ইস্কাফ সিরাপের ৪০ হাজার ৮০০ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ হওয়া মাদকের মোট সিজার মূল্য ৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৫০ টাকা।এ ঘটনায় মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, মাদক পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।