“উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদারীপুরের শিবচরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবসটি উপলক্ষে শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিআরডিবির যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা চত্বরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের ‘ময়নাকাটা’ সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিবচর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা কামরুল হাসান। তিনি গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরি, আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে বিআরডিবির ভূমিকা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে শিবচর উপজেলায় বিআরডিবির অধীনে মোট ৬৩০টি সমিতি রয়েছে।
এসব সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ১১,৫০০ জন।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক গতিশীলতা সচল রাখতে চলতি বছরে উদ্যোক্তা ঋণ, পেশাজীবী ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ, কৃষি ঋণ এবং অপ্রধান শস্য ঋণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ২০.৫০ কোটি (সাড়ে বিশ কোটি) টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. হরিশ চন্দ্র বোস এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিত মজুমদার। বক্তারা গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই রূপান্তরের জন্য কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের সমন্বিত বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, “বাংলাদেশ মূলত একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং আমাদের সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাই পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে দেশ কখনোই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না। গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বিআরডিবি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভিন্ন সমিতির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আলোচনা সভা শেষে উপজেলার সফল সমবায়ী ও সফল উদ্যোক্তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের মাঝে নগদ টাকার চেক ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।