নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে সোবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সহায়তার লক্ষ্যে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, চারা, সার এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ কর্মসুচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার মোট ২৫০৬ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

​অনুষ্ঠানে উপজেলার তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে উফশী রোপা আমন ধান, হাইব্রিড মরিচ বীজ, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, লেবুর চারা, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (এন-৫৩ জাত), বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা, ডিএপি ও এমওপি রাসায়নিক সার, জৈব সার (গোবর সার) এবং বালাইনাশক বিতরণ করা হয়। এছাড়াও পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ ও বৃক্ষরোপণের জন্য চারা, খুঁটি, জৈব সার পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

​অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে ফলন বাড়াতে আমরা এই প্রণোদনা দিচ্ছি। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আমরা উফশী রোপা আমনের জন্য ১৮০০ জন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জন্য ২৩০ জন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৪০০ জনসহ মোট ২৫০৬ জন কৃষককে নির্বাচন করেছি। বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের সুবিধার্থে এবার বিনামূল্যে আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ দেওয়া হচ্ছে, যা মাঠ পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ও পচন রোধে দারুণ ভূমিকা রাখবে। সঠিক নিয়মে এই উপকরণগুলো ব্যবহার করলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

​ আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-০৬(আত্রাই-রাণীনগর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজু। তিনও তাঁর বক্তব্যে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় মানসম্মত বীজ ও সার পৌঁছে দিচ্ছে যাতে কোনো জমি অনাবাদী না থাকে।আমন ধান, হাইব্রিড মরিচ, উন্নত জাতের লেবু ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির যে বীজ, সার ও চারা পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে। আমি আশা করি, প্রণোদনা পাওয়া কৃষকেরা আন্তরিকতার সাথে চাষাবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাবেন এবং দেশের কৃষি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।

​উফশী রোপা আমন: ১৮০০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার), ​মরিচ বীজ (হাইব্রিড): ২০ জন কৃষক (প্রতিজন: ১০ গ্রাম বীজ, ৫ কেজি ডিএপি, ৫ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার ও বালাইনাশক),
​গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি: ৩০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৩০০ গ্রাম বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার), ​লেবু চারা: ২০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫টি চারা ও ৩০ কেজি জৈব সার)
​গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (এন-৫৩ জাত): ২৩০ জন কৃষক (প্রতিজন: ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার, পলিথিন ও বালাইনাশক), ​এয়ার ফ্লো মেশিন: ০৬ জন কৃষককে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিনামূল্যে ০১টি করে মেশিন প্রদান। ​বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ৪০০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫টি চারা, ৩০ কেজি জৈব সার ও বাঁশের খুঁটি)।

​উপকরণ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথি ও কৃষি অফিসার কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং মাঠ পর্যায়ে যেকোনো সমস্যায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, এসময় উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পি.এম কামরুজ্জামান এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মীর, আত্রাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান সরদার প্রমুখ।