ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ গ্রাহকদের রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজ করতে চুক্তিবদ্ধ হলো নগদ ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন ‘শাইন ১০০ ডিএক্স’ নিয়ে এলো হোন্ডা ঘুমাচ্ছেন নাকি ক্লান্ত হচ্ছেন? স্বপ্ন দেখার পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল বিজ্ঞানটি জানুন আগোরাতে অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিয়োগ নিটোল-নিলয় গ্রুপে চমত্কার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ; সাথে থাকছে নিশ্চিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট! বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় ৯ জুলাই মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের নবীনগরে দেড় লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে দর্শকদের ঢল
নোটিশ :
যেকোনো প্রিমিয়াম থিম ও প্লাগইন, লারাভেল স্ক্রিপ্ট ক্রয় করতে আমাদের কল করুন 01711-872335। ভিজিট করুন www.ThemeBikroy.com

ঢাকার কাছেই রহস্যময় ‘ধাঁধার চর’

ধাঁধার চর, ছবি: সংগৃহীত

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য অজানা সৌন্দর্যের গল্প। তেমনই এক অনন্য স্থান গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কাছে শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থলে গড়ে ওঠা ‘ধাঁধার চর’। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মাঝের চর’ বা ‘মাইঝ্যার চর’ নামেও পরিচিত। রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত এই শান্ত-স্নিগ্ধ দ্বীপটি এখনো পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে না উঠলেও সম্ভাবনার দিক থেকে বেশ আলোচনায় রয়েছে।

‘ধাঁধার চর’ নামটির পেছনে রয়েছে চমকপ্রদ গল্প। একসময় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে চরের আকার-আকৃতি বারবার বদলে যেত। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা রাতে মাঝনদীতে এসে জেলে ও মাঝিরা দিক হারিয়ে ফেলতেন। তাদের কাছে জায়গাটি যেন এক রহস্যময় ধাঁধার মতো মনে হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘ধাঁধার চর’।

ঐতিহাসিকদের মতে, সুলতানি ও মোগল আমলে এই নদী মোহনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সে সময় নৌ-সেনারা এখানে বিশ্রাম নিতেন এবং নিরাপত্তা তদারকির কাজে দ্বীপটি ব্যবহার করতেন। সময়ের সঙ্গে পলি জমে জমে এটি এখন একটি বিস্তীর্ণ সবুজ দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে ধাঁধার চরে গেলে চোখে পড়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। চারপাশে স্বচ্ছ পানির ধারা, দিগন্তজোড়া সবুজ, আর পাখির কোলাহল—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ জায়গা। একপাশে শান্ত শীতলক্ষ্যা, অন্যপাশে গম্ভীর ব্রহ্মপুত্র—দুটি ভিন্ন রূপ একই স্থানে দেখা যায়। দর্শনার্থীরা সাধারণত নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে এখানে ঘুরতে আসেন, অনেকেই পিকনিকও করেন। তবে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ধাঁধার চর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার এটিকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবনায় রয়েছে ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কাপাসিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে, পাশাপাশি হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতেও উন্নয়ন ঘটবে। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এটি খুব সহজেই জনপ্রিয় ‘উইকেন্ড ট্যুরিস্ট স্পট’ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধনে ‘ধাঁধার চর’ বাংলাদেশের একটি নতুন পর্যটন সম্ভাবনার নাম। যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ

ঢাকার কাছেই রহস্যময় ‘ধাঁধার চর’

আপডেট সময় ০৩:২৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য অজানা সৌন্দর্যের গল্প। তেমনই এক অনন্য স্থান গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কাছে শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থলে গড়ে ওঠা ‘ধাঁধার চর’। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মাঝের চর’ বা ‘মাইঝ্যার চর’ নামেও পরিচিত। রাজধানী ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত এই শান্ত-স্নিগ্ধ দ্বীপটি এখনো পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে না উঠলেও সম্ভাবনার দিক থেকে বেশ আলোচনায় রয়েছে।

‘ধাঁধার চর’ নামটির পেছনে রয়েছে চমকপ্রদ গল্প। একসময় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে চরের আকার-আকৃতি বারবার বদলে যেত। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা রাতে মাঝনদীতে এসে জেলে ও মাঝিরা দিক হারিয়ে ফেলতেন। তাদের কাছে জায়গাটি যেন এক রহস্যময় ধাঁধার মতো মনে হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘ধাঁধার চর’।

ঐতিহাসিকদের মতে, সুলতানি ও মোগল আমলে এই নদী মোহনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সে সময় নৌ-সেনারা এখানে বিশ্রাম নিতেন এবং নিরাপত্তা তদারকির কাজে দ্বীপটি ব্যবহার করতেন। সময়ের সঙ্গে পলি জমে জমে এটি এখন একটি বিস্তীর্ণ সবুজ দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে ধাঁধার চরে গেলে চোখে পড়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। চারপাশে স্বচ্ছ পানির ধারা, দিগন্তজোড়া সবুজ, আর পাখির কোলাহল—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ জায়গা। একপাশে শান্ত শীতলক্ষ্যা, অন্যপাশে গম্ভীর ব্রহ্মপুত্র—দুটি ভিন্ন রূপ একই স্থানে দেখা যায়। দর্শনার্থীরা সাধারণত নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে এখানে ঘুরতে আসেন, অনেকেই পিকনিকও করেন। তবে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ধাঁধার চর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার এটিকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবনায় রয়েছে ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কাপাসিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে, পাশাপাশি হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতেও উন্নয়ন ঘটবে। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এটি খুব সহজেই জনপ্রিয় ‘উইকেন্ড ট্যুরিস্ট স্পট’ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধনে ‘ধাঁধার চর’ বাংলাদেশের একটি নতুন পর্যটন সম্ভাবনার নাম। যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য।